• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১, ২৭ চৈত্র ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২১, ১০:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৮, ২০২১, ০১:৪৮ এএম

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস

“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘নারী’ কবিতায় বলে গেছেন এই কথা। মানবসভ্যতার ইতিহাসও বলে বিশ্বের সব ক্ষেত্রেই রয়েছে নারী-পুরুষের সমান অবদান। তবে নারীদের অধিকার আদায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ যে নারী দিবস আমরা পালন করছি তার পেছনে কিন্তু পুরুষদের চেয়ে নারীদের ভূমিকাই বেশি ছিল।

নারী শ্রমিক দিবসের ইতিহাস: 
১৮৫৭ সালে বেতন বৈষম্য নিরসন, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর নারীদের জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি নিয়ে রাজপথে নামেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুতো কারখানার নারী শ্রমিকেরা। তবে নিউইয়র্কের রাস্তায় শুরুতেই পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয় তারা।

১৮৬৯ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সমঅধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোশালিস্ট পার্টি অফ আমেরিকা ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কে নারী শ্রমিকদের কাজের সম্মান আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘটের ডাক দেয়।

১৯০৮ সালে সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে।

কোপেনহেগেন এই সম্মেলনে প্রথমবার ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন ক্লারা জেটকিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১১ থেকে নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হতে আসছে। বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রবাদীরা এর সমর্থন দেন।


আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পথচলা: 
১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ৮ মার্চ নারী অধিকার দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। এরপর ১৯৭৫ সালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীদের সম্মানে এই দিনটি সরকারি ছুটি থাকে। রাশিয়া, ইউক্রেন, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কম্বোডিয়া, কিউবা, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামেও এর প্রচলন রয়েছে। চীন, নেপালসহ কয়েকটি দেশে শুধু নারীরাই এই ছুটি পেয়ে থাকেন।

মূলত নারীবাদীদের হাত ধরেই আজকের এই নারী দিবসের সূত্রপাত। শুরুর দিকে নারীরা সম্পত্তি লাভের অধিকার, নির্বাচন করার ও ভোট দেওয়ার সমানাধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এরপর লিঙ্গ বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়েও প্রতিবাদ করেন নারীরা। নব্বইয়ের দশকে নারীরা নিজেদের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে সচেতন হন। ধীরে ধীরে লিঙ্গ বৈষম্য ও নারী বিদ্বেষের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী হয়ে ওঠে নারী সমাজ। তবে যুগ যুগ ধরে অধিকার আদায়ে নারীরা যে আন্দোলন জারি রেখেছেন, সেই সমাজে নারীদের অধিকার রক্ষায় পুরুষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নটা কিন্তু আজও রয়ে গেছে।