• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০, ০২:০২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০, ০২:৫৭ পিএম

আমাদের যেসব ভুলের কারণে ওজন সহজে কমে না

আছিয়া পারভীন আলী শম্পা
আমাদের যেসব ভুলের কারণে ওজন সহজে কমে না

আজকাল ওজন বেড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ চিত্র। ইদানীং, প্রায় সবাই ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে ওজন বেড়ে যাওয়ার চিন্তা করতে করতে আরো ওজন বাড়িয়ে ফেলছেন। অনেকে আবার অনেক চেষ্টা করেও নিজের ওজন কমাতে পারছেন না। আসলে, ওজন বেড়ে যাওয়ার পেছনে যেমন অনেক কারণ থাকে, তেমনিভাবে ওজন না কমার পেছনেও অনেক কারণ থাকে।

যদিও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অলস জীবন যাপন, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যআঁশ গ্রহণ না করা, ব্যায়াম না করা এবং আরো একটি বড় কারণ হল- তিনবেলা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ভাত খাওয়া।

এছাড়া, আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে যে কারণে মানুষের ওজন খুব দ্রুত বাড়লেও সহজে ওজন কমে না। সেসব ক্ষেত্রে ওজন বাড়ার মূল কারণ বের করা হয় না বলে ওজন কমানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।

অনেক চেষ্টার পরও যদি ওজন না কমে তবে নিচের তথ্যগুলো থেকে খুঁজে নিন- আপনার সমস্যাগুলো কোথায়? 

আপনার মতে আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করছেন, কম খাচ্ছেন অথবা সব নিয়ম মানার পরও যদি আপনার ওজন না কমে তবে বুঝতে হবে সমস্যা আরো গভীরে।
 
• যাদের দেহে আয়রন, ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়েছে অথবা হরমোনাল সমস্যা যেমন- থাইরয়েড বা পিসিওএস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানো কঠিন। সেক্ষেত্রে, এসব রোগ চিকিৎসা করা এবং চিকিৎসার পাশাপাশি যদি নিয়মিত সঠিক খাদ্য এবং ব্যায়াম করা হয় তবে ওজন কমানো সম্ভব।

• যারা খাবার স্কিপ করে, অর্থাৎ এক বেলা খায় আর এক বেলা খায় না তাদের ক্ষেত্রেও সহজে ওজন কমে না। না খেয়ে থাকার ফলে শরীর দুর্বল থাকে, তাই অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার পর যখনই সামনে খাবার আসে তখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার গ্রহণ করা হয়। ফলাফল ওজন বৃদ্ধি। 

• যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং ব্যায়াম করার পর তৈলাক্ত এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে ওজন সহজে কমে না।

• খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া। আপনি যত কম খাবারই খান না কেন, যদি খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শুয়ে পড়েন তবে মেটাবলিজম স্লো হয়ে যায়, ফলাফল ওজন বৃদ্ধি। খাওয়া এবং ঘুমাতে যাওয়ার ব্যবধান অন্তত ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা হলে সব চেয়ে ভালো হয়। 

• ফল খান না অথচ ফলের জুস আপনার অনেক পছন্দ। ফলে এমনিতেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে আর জুস তৈরিতে ব্যবহার করা হয় টেবিল সুগার। ফলে আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ হয় এক্সট্রা ক্যালরি। আর ‘এক্সট্রা ক্যালরি’ মানে ‘এক্সট্রা ওয়েট গেইন’।

• অনেকে দিনে অনেকবার চা খেয়ে থাকেন আর প্রতিবার চায়ের সঙ্গে যে চিনি যোগ করে থাকেন তা ওজন কমার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যদি ফিট থাকতে চান তবে সারাদিনে ২ চা চামচের চেয়ে বেশি চিনি নয়। 

• প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা খাদ্যআঁশ গ্রহণ না করা। শাকসবজি এবং ফলমূল বা ফাইবার আমাদের ক্ষুধাকে ডমিনেট করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীর থেকে ফ্যাট বের করে দিতে সাহায্য করে।

• পানি কম পান করা। পানি আমাদের দেহের প্রতিটা অর্গানকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজমকে বৃদ্ধি করে। সুতরাং, ওজন কমাতে চাইলে সঠিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

• নিয়মিত ব্যায়াম না করা। ওজন কমানো বা ফিট থাকার জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত।

• এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকা। নিয়ম হল- যাদেরকে সারাদিন বসে কাজ করতে হয় অন্তত ৩০ মিনিট পর পর জায়গা থেকে উঠে ২-৩ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা। 

সুতরাং, যাদের ওজন বেশি তারা ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই একজন ডাক্তার এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন। এর ফলে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সঠিক কারণগুলো বের করা সহজ হবে এবং যে কারণে ওজন বেড়েছে তা বের করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ওজন কমানো বেশ সহজ হয়ে যাবে। 

আর হ্যাঁ, প্রতি বড় মিল গ্রহণ করার পর শুয়ে বা বসে না পড়ে যদি অন্তত ১৫ মিনিট ধীরে ধীরে রুমের মধ্য পায়চারী করা হয় তবে সুগার নিয়ন্ত্রণ করা এবং ওজন কমানো বেশ সহজ হয়।    

লেখক : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মা।    

এফসি