• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১২:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১২:৩৭ পিএম

যুবলীগ নেতাদের শেখ হাসিনা 

সংগঠনের অপকর্মকারীদের বিষয়ে আগেই জানানো উচিত ছিল

জাগরণ প্রতিবেদক
সংগঠনের অপকর্মকারীদের বিষয়ে আগেই জানানো উচিত ছিল

কেন অতীতে যুবলীগের মধ্যে থাকা অপকর্মকারীদের বিষয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে আমাকে অবগত করা হয়নি যুবলীগ নেতাদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ‘যুবলীগের সম্মেলন- ৭ম জাতীয় কংগ্রেস’ দিক নির্দেশনা নিতে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান।

সম্প্রতি ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে যুবলীগ নেতাদের তিনি বলেছেন, এতো অনিয়ম হচ্ছে, তোমরা তো আমাকে কিছুই বলোনি। আজকে আমি সুযোগ করে দিয়েছি, তাই তোমরা এখন বলছো। এসব অনিয়মের বিষয়ে তোমাদের আগে থেকেই আমার কাছে অভিযোগ করা উচিত ছিল। এ সময় বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যুবলীগ নেতাদের উদ্দেশে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, কেউ অপকর্ম করে বাঁচতে পারবে না। যুবলীগের কে কোথায় কি করছে তা আমি জানি। এ সময় তিনি যুবলীগ নেতাদের ভোগ বিলাসিতা পরিহার করে সাধারণভাবে চলাফেরার করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও যুবলীগে এখন থেকে যাচাই-বাছাই করে নেতৃত্বে আনা হবে বলে সংগঠনের নেতাদের জানিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

তিনি জানিয়েছেন, যুবলীগের কোনো অনুপ্রবেশকারী কিংবা দলের বাইরে থেকে কেউ আসতে পারবে না। দলীয় কর্মীদের কাছে সংগঠনের রাজনীতি থাকবে। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমাদের দলের যারা রয়েছে তারাই যথেষ্ট। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রারম্ভিব বক্তব্য দিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। বৈঠকে যুবলীগ নেতারা সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি দলীয় প্রধানের হাতে তুলে দেন। সেই সঙ্গে সংগঠনের বিতর্কিত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার জন্য ক্ষমা চান।

বৈঠকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের একটি সফল সম্মেলন করাসহ আগামীতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করার নির্দেশনা দেন। শেখা হাসিনা বলেন, যুবলীগের নতুন নেতৃত্বে যারা আসবে তারা যাতে বির্তকিত না হয়, সে জন্য সংগঠনের সকলকে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি যারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছে তাদের অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেন।

গণভবনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন, যাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে নেত্রী সবাইকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কাউকে ভারপ্রাপ্ত করা হয়নি। যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃত্বে যুবলীগের সম্মেলন হবে। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সম্মেলন নিয়ে কোনো কার্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করবেন না।

এছাড়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যুবলীগের বয়সসীমা হবে ৫৫ বছর। সেই সঙ্গে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনতে হবে এটাও যুবলীগ নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দৈনিক জাগরণকে বলেছেন, আমাদের গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা নির্ধারণ নেই। এ জন্য সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের একটি সাব কমিটি করে নেত্রীকে দেখানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্মেলননে সংগঠনের কাউন্সিলরদের উপস্থিতি গঠনতন্ত্রে এই সংশোধনী আনা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আদর্শিক নেত্রী, এক্ষেত্রে তিনি যেটা বলবেন, সেটাই হবে। তবে গঠনতন্ত্রে সংশোধন করে লিখিত আকারে আনতে হবে।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন, শহিদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুঁইয়া মাখন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, মনজুর আলম শাহীন, নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, মুহা. বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আসাদুল হক, এমরান হোসেন খান, আজহার উদ্দিন ও ফারুক হাসান তুহিন। যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য , সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠকে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপু উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বৈঠকে তাদের বাদ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
 
এএইচএস/একেএস

আরও পড়ুন