• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০৫:১৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০৫:১৮ পিএম

গাইবান্ধায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
গাইবান্ধায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আশরাফুলের বাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রেমিকা বিলকিছ - ছবি : জাগরণ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামে বিয়ের দাবিতে ১৯ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে আমরণ অনশনে রয়েছেন বিদেশফেরত এক প্রেমিকা।

জানা গেছে, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামের জহির উদ্দিনের সৌদি প্রবাসী ছেলে আশরাফুল ইসলামের সাথে একই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার জর্ডান প্রবাসী মেয়ে বিলকিছ আক্তারের ফেসবুকে দীর্ঘ দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনের গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নে হওয়ায় আশরাফুল বিলকিছকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষের অভিভাবকেরাও এতে সম্মতি জানান। বিয়ের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হলে বিলকিছ জর্ডান থেকে কয়েক দফায় ৬ লক্ষাধিক টাকা পাঠান আশরাফুলের পরিবারকে।

প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করে অভিভাবকদের জানিয়ে গত ১২ আগস্ট দুজনই দেশে ফেরেন। এদিকে দেশে ফেরার পর প্রেমিক আশরাফুল বিয়ের দিন-তারিখ অস্বীকার করে প্রেমিকাকে প্রত্যাখ্যান করলে বিলকিছ টাকা ও মানসম্মান হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমিক আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে গত ২২ আগস্ট অবস্থান নেন।

ঘটনাটি টক অব দ্য সুন্দরগঞ্জে পরিণত হলে এলাকাবাসী একত্র হয়ে গত ২৪ আগস্ট ইউপি সদস্য সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে সালিসে বসেন। প্রেমিক-প্রেমিকার উপস্থিতিতে সালিসে ৫ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে প্রেমিকা পক্ষের লোকজন বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকলে প্রেমিক পক্ষ শালিসের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কিছুসংখ্যক লোকের সহযোগিতায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এদিকে প্রেমিককে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে ওই রাতেই কয়েকজন যুবক প্রেমিকার ঘরে ঢুকে তাকে অপহরণ ও তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে যুবকরা পালিয়ে যায়। পরদিন ২৫ আগস্ট দুপুরে প্রেমিক পক্ষের ভাড়াটে কিছু যুবক প্রেমিকাকে আবারো অপহরণের চেষ্টা চালালে এলাকাবাসীর সাথে সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রেমিকা গ্রাম পুলিশের পাহারায় প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এ ব্যাপারে রামজীবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জাগরণকে বলেন, ‘আমাকে দুই পক্ষের কেউ ঘটনা জানায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বার সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রামজীবন ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার সালিসের মাধ্যমে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলে নিখোঁজ থাকায় কোনো সমাধান করা যাচ্ছে না।’

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এনআই

আরও পড়ুন

Islami Bank