• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৭:০৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৭:০৮ পিএম

অবশেষে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হচ্ছে সেই শতবর্ষী বৃদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা
অবশেষে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হচ্ছে সেই শতবর্ষী বৃদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশনে ফেলে রেখে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধা - ছবি : জাগরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশনে ফেলে রেখে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধার অবশেষে ঠাঁই হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকার সাড়া মানবিক সংস্থার এক বৃদ্ধাশ্রমে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদটি দেখে তারা যোগাযোগ করে বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদনও করেছে জেলা প্রশাসকের কাছে। আরেকটু সুস্থ হলে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও মিলেছে। তবে এখনো অজানাই পাষণ্ড স্বজনদের পরিচয়।

স্টেশনে ১৪ দিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার পর কয়েকজন হৃদয়বান মানুষের চেষ্টায় শতবর্ষী ওই বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হয় গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় অবশেষে একটি সুন্দর ঠিকানা হতে যাচ্ছে সাড়া মানবিক সংস্থায় (সামাস)।

সামাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল মালেক (পথশিশু মালেক) এবং সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান (মানবতার ফেরিওয়ালা) মামুন বিশ্বাস বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এজেডএম নুরুল হকের সঙ্গে দেখা করে ওই বৃদ্ধাকে বৃদ্ধাশ্রমে নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

তবে উদ্ধার হওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কয়েক দিন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মালতি বেগমকে দায়িত্ব দিয়েছিল অসহায় শতবর্ষী বৃদ্ধাকে দেখভাল করার। মাত্র চার দিনেই পরিচয় না-জানা সেই মানুষটির সাথে মালতি বেগমের তৈরি হয়েছে এক আত্মিক সম্পর্ক।

‘আমি তোমাকে যেতে দিব না, তুমি থাকবা আমার কাছে।’ শতবর্ষী বৃদ্ধাকে দেখভালকারী মালতি বেগম এভাবেই আহাজারি করছিলেন যখন শুনলেন তাকে নিয়ে যাওয়া হবে ময়মনসিংহে। অথচ এখনো খোঁজ নেই স্বজনদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, আগের তুলনায় বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে অনেক। তবে ভ্রমণ করে ভালুকায় যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখনো হয়নি তার।

হাসপাতালে ভর্তির পর শুরুতে কিছু খেতে চাইতেন না এই বয়োজ্যেষ্ঠা। এখন নিজে থেকেই নাশতা করতে চাইছেন, চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন একবার। আর ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে আধো আধো বোলে কখনো ঈশ্বরদী, কখনো যশোর আবার কখনো খুলনার কথা বলছেন।

উল্লেখ্য, ২৯ ডিসেম্বর রহনপুর রেল স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশের একটি তেঁতুলগাছের নিচে ওই বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে যায় দুই ব্যক্তি। স্থানীয়দের ধারণা, বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরাই একটি ভ্যানে করে তাকে গাছের নিচে ফেলে রেখে যায়। তবে বৃদ্ধা এতটাই দুর্বল যে তিনি তার নাম-পরিচয়ও জানাতে পারেননি। এছাড়া প্রচণ্ড শীতে জবুথবু বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই শতবর্ষী বৃদ্ধার দায়িত্ব নেন রহনপুর তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদুল ইসলাম ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) নুরুন্নবী।

এনআই

আরও পড়ুন