• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৩, ২০১৯, ০৮:২৩ এএম

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুন

সন্দেহের তালিকায় জামাতা কাজী মনিরও

জাগরণ প্রতিবেদক
সন্দেহের তালিকায় জামাতা কাজী মনিরও
ধানমণ্ডিতে নিহত আফরোজা বেগমের (ইনসেটে) স্বজনদের আহাজারি - ছবি : সংগৃহীত

ধানমণ্ডির ফ্ল্যাটে জোড়া খুনের ঘটনায় আটক দেহরক্ষী বাচ্চু প্রসঙ্গে শিল্পপতি জামাতা কাজী মনির উদ্দিন তারিম ও সেই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামানের বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। বক্তব্যের এমন ফারাক পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেছেন কাজী মনির উদ্দিনও। ডিবি, পিবিআই, সিআইডি- প্রতিটি সংস্থা এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।

নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামানের কথা অনুযায়ী- ঘটনার দিন শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে আফরোজা বেগমের বাসায় যান বাচ্চু। সেসময় তার সঙ্গে একজন নতুন গৃহকর্মীও যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে লুঙ্গি পরিহিত বাচ্চু ভবন থেকে বেরিয়ে যান। ৭টার দিকে নতুন সেই গৃহকর্মী বেরিয়ে যান।

এদিকে কাজী মনির উদ্দিন শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি বাচ্চুকে নিয়ে স্যুপ কিনতে যান। এসময় বাসার এক সিকিউরিটি গার্ড ফোন করে হত্যার খবর দিলে বাচ্চু স্যুপ না কিনেই দৌড়ে চলে আসে।

ডিবির একটি সূত্র জানায়- বাচ্চুকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। এটা থেকে কিছু পাওয়া যাচ্ছে। খুব দ্রুতই এ হত্যার রহস্য জানা যাবে। কাজী মনিরকে আমরা নজরদারিতে রেখেছি। প্রয়োজনে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের একটি বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে দুই নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- টিমটেক্স গ্রুপের এমডি এবং ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিনের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী বিথী (১৮)।

শুক্রবার ওই বাসায় নতুন একজন গৃহকর্মী কাজে এসেছিল জানিয়ে মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলছেন, নিরাপত্তাকর্মী বা কর্মচারীদের যোগসাজশে ওই কাজের বুয়াই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বাসা থেকে টাকা, তিনটি ফোন, সঞ্চয়পত্র, গয়নাসহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে।

ওই সড়কের ২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে লবেলিয়া নামের ছয় তলা ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে মোট পাঁচটি ফ্ল্যাট আছে ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন তারিমের। এর মধ্যে দুটো তিনি ভাড়া দিয়েছেন। পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তার শাশুড়ি ও তার গৃহকর্মী।  এর উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং এর ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় তারিম ও তার স্ত্রী সন্তানরা থাকেন।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিল্পপতি মনিরের দেহরক্ষী বাচ্চু ও ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে।

আরএম/ এফসি

আরও পড়ুন