• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২০, ০৮:৩১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৫, ২০২০, ০৮:৩১ এএম

বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূ-কম্পন

জাগরণ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূ-কম্পন

সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার অঞ্চলে। বিশেষত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে অনেক বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। সেই কম্পনে কেঁপে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলও।
 বুধবার (২৪ জুন) টানা চতুর্থ দিনের মতো ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ভূমিকম্প হয়েছে। এটিও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনভূত হয়েছে।
শুধু ভারত অংশে নয়, বাংলাদেশেও গত ক’মাসে তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে মৃদু মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ঢাকা থেকে ৭১ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। আরেকটি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প হয় ১৩ মার্চ সিলেটের গোয়াইনঘাটে। ঢাকা থেকে ২২৮ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। আর সর্বশেষ ভূমিকম্পটি হয় গত ২৯ মে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরে। ঢাকা থেকে ৯৬ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫।
গত ক’দিনের ঘন ঘন ভূমিকম্প মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এটা অনেক বড় কোনো আঘাতের আভাস কি-না, সে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, ৫ থেকে ৭ বছর পরপর এই অঞ্চলে স্বাভাবিক নিয়মে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কেউ বলছেন, হঠাৎ ভূমিকম্প হয়েছে, এমন নয়। এই লাইনে প্রতিনিয়তই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিয়ে অল্প যে কয়েকজন গবেষণা করেছেন, তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। যৌথভাবে তার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার জিওসায়েন্সে।
ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ার কারণ ব্যাখ্যাকালে সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘ভূমিকম্প হচ্ছে পাবর্ত্য অঞ্চলে; মনিপুর, মিজোরাম, মিয়ানমার – এই বেল্টে। এখানে ৫ থেকে ৭ বছর পরপর ৪ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এটা যেহেতু সাবস্ট্রাকশন জোন বা দুটো টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল- এখানে ৫ থেকে ৭ বছর পরপর এরকম হবেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুটো প্লেটের সংযোগ স্থল হলো একটা বিরাট অংশ। এটা বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চল, মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের নিচ দিয়ে চলে গেছে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দিকে। এটা হচ্ছে ইন্ডিয়া-বার্মা প্লেটের ওপরের অংশের সংযোগ। সংযোগটার নিচের অংশ অনেক পূর্বে চলে গেছে। পুরো অঞ্চলটাকেই বলা হয় সাবস্ট্রাকশন জোন।’
ঘন ঘন মৃদু কম্পনের বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প বিশারদ মমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আর্থ ইনসাইডে (পৃথিবীর ভেতরে) শক্তি জমা হয়, যখন এটা বেশি মাত্রায় পৌঁছে যায়, তখন সে চায় এটাকে (শক্তিটা) ছেড়ে দেয়ার জন্য। ফল্ট লাইন বা দুটো প্লেটের সংযোগস্থল থাকে, অনেক সময় সাব-ফল্ট লাইনও থাকে; এই ফল্ট লাইন ও সাব ফল্ট লাইন দিয়ে যে শক্তি অর্জন করে থাকে, সেগুলো অনেক সময় সেটা রিলিজ করে দেয়। তখনই ভূমিকম্প হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত দু’দিন আগে যে দুটো ভূমিকম্প (ভারতে ২১ জুন বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে এবং ২২ জুন ভোর ৪টা ২২ মিনিটে) হলো ভারত-মিয়ানমার বাউন্ডারি লাইনে, সেখানে সেগিং ফল্ট নামে একটা বড় ফল্ট আছে। এই লাইনে প্রতিনিয়তই ভূমিকম্প হয়। এমন না যে হঠাৎ করে ভূমিকম্প হয়েছে। সাধারণত বেশিরভাগ ভূমিকম্প হয়ে থাকে প্লেট বাউন্ডারি কিংবা বড় ধরনের ফল্ট লাইনগুলোতে। কেননা এদিক দিয়ে সহজেই শক্তিটা বেরিয়ে যেতে পারে।’
‘গত পরশু দিন যে দুটো ভূমিকম্প হয়েছে ঢাকা থেকে পূর্বে একটা ৩০০ কিলোমিটার এবং আরেকটি ২৭৯ কিলোমিটার দূরে। সাধারণ প্লেটগুলো মুভমেন্ট করে। এর ফলে সেখানে শক্তি জমা হয়। যখন শক্তিটা একটু সুযোগ পায়, তখনই সে ফল্ট লাইন দিয়ে শক্তিটা বের করে দেয়’—যোগ করেন মমিনুল ইসলাম।

এসকে