• ঢাকা
  • সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১০, ২০১৮, ০৯:১৫ এএম

একান্ত সাক্ষাৎকারে নানক

ছন্দপতনহীনভাবেই দলের জন্য কাজ করে যাব

আল হেলাল শুভ
ছন্দপতনহীনভাবেই দলের জন্য কাজ করে যাব


আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যও।  বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদ। তার রয়েছে একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।  আইন বিষয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও দলের নির্বাচন পরিচালনার বিশেষ দায়িত্বে রয়েছেন। দলের নির্বাচনের কয়েকটি বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে রোববার জাগরণের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন নানক।  

জাগরণ : এবার আপনি দল থেকে মনোনয়ন পাননি।  আগামীতে দলের জন্য কীভাবে কাজ করতে চান?

জাহাঙ্গীর কবির নানক : দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, করে যেতে চাই। যেদিন আমি মনোনয়ন পাইনি এমন ঘোষণা শুনেছি, সেদিনই দলীয় অফিসে চলে এসেছি। প্রথমত. আমি দলের মানুষ, তারপরে এমপি, আমি মন্ত্রীও ছিলাম। দলের জন্য আমি বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৬৯ সালে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করি। তারপর থেকে দলের জন্যই আবিরাম কাজ করেছি। আমার কোনো ছন্দপতন নেই। আমি ছন্দপতনহীনভাবেই দলের জন্য কাজ করে যাব।

জাগরণ : আপনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে কীভাবে কাজ করছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক : আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের একটি প্রচীনতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল।  সেই দলের আদর্শই এখানে কাজ করেছে। শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের রয়েছে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস। এটাই কাজ করেছে। এছাড়া এক্ষেত্রে আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) সকল মনোনয়নপ্রত্যাশীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। পাশাপাশি আমরা যারা নির্বাচনের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। সবকিছু মিলিয়েই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি সুন্দর সমাধান হয়েছে।

জাগরণ : এ পর্যন্ত কতজন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ‘বসে’ গেছেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক : আওয়ামী লীগের ২৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এর মধ্যে প্রায়ই উঠে গেছে। আশা করছি আজকের (রোববার) মধ্যে বাকিরাও প্রত্যাহার করে নেবে।  

জাগরণ : আপনি দলের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, সমন্বয়টা কীভাবে করবেন?
 
জাহাঙ্গীর কবির নানক : নির্বাচন তো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।  আওয়ামী লীগ বিগত এক বছর যাবৎ নির্বাচন নিয়ে কাজ করছে। আমাদের প্রার্থীরাও সেটাই করেছেন। নির্বাচনে ভোটের মালিক হলো জনগণ। নির্বাচনের প্রক্রিয়াই হলো- জনগণের কাছে যাওয়া, জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের হৃদয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে আমাদের দলের জন্য সবচেয়ে বড় পুঁজি হলো আমাদের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপক জনপ্রিয়তা মানুষের কাছে।  তিনি গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নকে সামনে রেখেই আমরা নির্বাচন করছি।  আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ উন্নয়ন চায়, শান্তি চায়।

জাগরণ : বিএনপি বলেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তারা কেন্দ্র পাহারা দেবে। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক : এটা হলো একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।  যে দলটি গত ১০ বছরে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি, যে দলের আন্দোলন করার সৎসাহস থাকে না। সাহসী নেতৃত্বের অভাব। যেদল একটি দুর্নীতিপরায়ন দল। যেদল মনোনয়ন বাণিজ্য করে, সেদলের কর্মীরা কখনও পাহারা দেয় না। পাহারা দেয় জনগণ। এ ধরনের বক্তব্য তাদের বাগাড়াম্বর, উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতো।

জাগরণ : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে আগামী নির্বাচনে ৩শ আসনের জন্যই টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কিছু বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক : শুধু ৩০০ আসনেই টিম গঠন করা নয়। নির্বাচনকে ঘিরে আমরা গত ১ বছর ধরে কাজ করছি। আমি একটি এলাকার (মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর) সংসদ সদস্য। এবার মনোনয়ন পাইনি। কিন্তু যিনি ওই এলাকায় মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি সবকিছু রেডিমেড পেয়েছেন। সেখানে আমরা সব সহযোগী সংগঠনের নির্বাচনের কেন্দ্র কমিটি করেছি। আবার তাদের সমন্বয়ও করা হচ্ছে। আমাদের দলের যে নির্বাচনি সমন্বয় সেটা কিন্তু অভূতপূর্ব সমন্বয়। সারা বাংলাদেশের সমস্ত সহযোগী সংগঠনগুলো কমিটি করেছে।  নির্বাচনের দিনে একটি সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে কাজ করবে। আমাদের পূর্বঅভিজ্ঞতা রয়েছে বিগত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের। এখন সেটাকেই আমরা কাজে লাগাচ্ছি।

জাগরণ : এবারের নির্বাচনেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো বিএনপির নাশকতার আশঙ্কা করছেন কি না?

জাহাঙ্গীর কবির নানক : বিএনপির মতি-গতি এখনও বোঝা যায় না। আসলে তারা কী করতে চায়। তারা আমাদের সতর্ক দৃষ্টিতে রয়েছে। যে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, না কি নির্বাচনের একটি পর্যায়ে গিয়ে নির্বাচন বয়কট করে দেশে একটি আরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। দেখুন, সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু বিএনপিকে বিশ্বাস করা যায় না।

এএইচএস/এফসি