• ঢাকা
  • সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১, ০৮:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১, ১০:১১ এএম

অভিজিৎ হত্যার রায়

‘লেখকদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে’

‘লেখকদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে’

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসির সামনে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই রাতেই অভিজিৎ মারা যান। এই হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। কেমন রায় প্রত্যাশা করেন?—  জাগরণের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন রাখা হয় শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক, লেখক রবীন আহসানের কাছে। কথা বলেছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ


জাগরণ : আগামীকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার) অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের রায়, এ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
রবীন আহসান :
অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলের ফাঁসি হোক— এটাই প্রত্যাশা। আমরা দেখেছি, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখতে না পেয়ে তার পিতা অজয় রায় মারা গেছেন। তিনি (অজয় রায়) মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে তাদের পরিবারের বড় ভূমিকা ছিল। এই রায়ের মধ্য দিয়ে পুনরায় লেখক, শিল্পী সাংবাদিক— যারাই লিখছেন তাদের জীবন যেন নিরাপত্তা পায়। লেখক-প্রকাশকদের হত্যায় যে সংগঠন জড়িত তাদেরকেও নির্মূল করা হোক। 

জাগরণ : সেই সময়ে ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের ওপর যে হামলা শুরু হয়েছিল সেটা কি এখন দুর্বল হয়ে গেছে?
রবীন আহসান :
অবশ্যই, দুর্বল হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের পরে কিন্তু এটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। যে আতঙ্ক তারা দেখাতে চেয়েছিল সেটার হাত থেকে জাতি রক্ষা পেয়েছে কিছুটা। বিচার হওয়ার আরো কমবে বলে মনে করি।

জাগরণ: ওইসব হামলার কারণেই কি বর্তমানে লেখক-প্রকাশকরা অনেক কিছু লিখছেন না বা প্রকাশ করছেন না?
রবীন আহসান :
অবশ্যই, আমরা দেখেছি এসব হামলার কারণে বাংলা একাডেমি নানা ধরনের নিয়মনীতি চালু করেছিল। অনেকগুলো স্টল বন্ধ করে দিয়েছিল। এসব হত্যাকাণ্ডের পর বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে কোনো স্বোচ্চার ভূমিকা ছিল না। 
একুশে বইমেলা থেকে শুরু করে নানা জায়গায় সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে ভয়ে-আতঙ্কে লেখকেরা কাজ করেছেন এবং সেইভাবে প্রকাশকদের বই প্রকাশ বন্ধ থেকেছে। ২০১৩ সালের পর থেকে রাষ্ট্র-সমাজ নিয়ে চিন্তা করা যায় এরকম গবেষণাধর্মী কোনো বই খুব একটা বের হয়নি। বলা যায়, বেরই হচ্ছে না। তার একটা প্রধান কারণ একজন অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড। পাশাপাশি তরুণ লেখকদের হত্যা করা হয়েছে। ওই সময়ে লেখক ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে ব্লগার নাম-পরিচয়ে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে আসলে সমাজে লেখালেখির মধ্যে বড় ধরনের একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে চলে গেছে। এর ফলে এক ধরনের মেধাশূনত্য আমাদের মধ্যে কাজ করছে।