• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ০৭:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ০৮:২৮ পিএম

ক্যান্সারের সাত পাঁচ

আছিয়া পারভীন আলী শম্পা
ক্যান্সারের সাত পাঁচ

“ক্যন্সার” মাত্র ৪টি বর্নের এই ছোট শব্দটি যে কারো জীবনে আতংক সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।অনেকটা না বলেই যেকোন সময়,একেবারে কোন লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ করা ছাড়ায় বসতি স্থাপন করতে পারে যে কোন মানুষের দেহে।অধিকাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত পরিবারের জন্য এটি বড় ধরণের দূর্যোগ বলে বিবেচিত।উন্নত বিশ্বের মত,বাংলাদেশেও আগের তুলনায় ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বহু গুনে।অন্যান্য রোগের তুলনায় ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং মৃত্যুর হার অনেক বেশি।ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪ জনের মধে তিন জনই মারা যান।

তাই,সময় এসেছে ক্যান্সার নিয়ে ভাববার।অনেক সময় আর্লি সাইন এবং সিমটমস সম্পর্কে ধারণা থাকলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।যদিও বেশির ভাগ মানুষ একেবারে শেষ ভাগে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

ক্যান্সার কি

আমরা জানি,আমাদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত।বেঁচে থাকার জন্য,কোষ বিভাজন খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু কোষ বিভাজন যখন অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে হতে থাকে,বিশেষ করে যখন পুরনো কোষ গুলি মারা না গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে ওঠে,তখন দেহে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে ক্যান্সার বলে।এই অতিরিক্ত কোষ গুলো ট্যিসুর একটি বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারে যাকে আমরা টিউমার বলি। তবে, সব টিউমারই যে ক্যান্সার হবে এমন কথা নেই। যে নিওপ্লাস্টিক কোষ গুলো আশপাশের কলাকে ভেদ করতে পারলেই তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার বলে।আর যারা,আশপাশের কলাকে ভেদ করতে পারেনা তাকে বিনাইন টিউমার বা নীরিহ টিউমার বলে।

তবে,সব ক্যান্সারেই যে টিউমার হবে এমন নয়। যেমন: লিউকেমিয়া ক্যান্সারে টিউমার ফরম করে না।

ক্যান্সার কেন হয়

অপুষ্টি,বয়স,পারিবারিক ক্যান্সারের ইতিহাস,সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনী রশ্মি,ওবেসিটি,বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ,ভেজাল খাদ্য গ্রহণ,দীর্ঘদিন শিল্প কারখানায় কাজ করা প্রভৃতি কারণে একজন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে।আবার,অনেক সময় অনেক অজানা কারণ থাকতে পারে যার জন্য মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারেন।

কোন ধরণের ক্যান্সারে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে

মানুষ বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে,যেমন : ব্লাডার ক্যান্সার,ব্রেস্ট ক্যান্সার,কলোরেক্টাল ক্যান্সার, ইসোফেগালক্যান্সার,হেড এন্ড নেক ক্যান্সার,গলার ক্যান্সার,টাং ক্যান্সার,লিউকেমিয়া ক্যান্সার,লিভার ক্যান্সার, লান ক্যান্সার,ওভারিয়ান ক্যান্সার,প্যানক্রিয়েটিক বা অগ্নাশয়ের ক্যান্সা, স্কিন ক্যান্সার,প্রোস্টেট ক্যান্সার,স্টমাক ক্যান্সার এবং ইউটেরাস ক্যান্সার। সুতরাং,বুঝতেই পারছেন ক্যান্সার আমাদের দেহের যেকোন স্থানে হতে পারে।তবে, পুরুষের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং মহিলাদের মাঝে ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়।

ক্যান্সারের ক্যাটেগরি:

ক্যান্সারের সাধারনত ৫ ধরণের ক্যাটেগরি রয়েছে যথা:

-কার্সিনোমাস জাতীয় ক্যান্সার যা ত্বক বা ট্যিসুতে শুরু হয়

-সারকোমা জাতীয় ক্যান্সার কার্টিলেজ,চর্বি এবং পেশীতে বা অন্যান্য সংযোগকারী ট্যিসুতে ডেভেলপ করে

-লিউকেমিয়া জাতীয় ক্যান্সার হয় অস্থি এবং মজ্জাতে 

-লিম্ফোমাস জাতীয় ক্যান্সার হয় ইমিউন সিস্টেমে

-কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্রের ক্যান্সার যা ব্রেন এবং স্পাইনাল কর্ডে ডেভেলপ হয়।

ক্যান্সারের চিকিৎসা

ক্যান্সারের চিকিৎসা কি ধরণের হবে তা নির্ভর করে একজন রোগী কি ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ক্যান্সারের কোন ষ্টেজে আছেন।

ধরণ বা কোন স্টেজে আছে তার উপর ভিত্তি করে প্রধানত ৩ ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে-

সার্জারিঃ সরাসরি টিউমার অপসারণ করা

কেমোথেরাপিঃ মেডিসিনের মাধ্যমে ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করা হয়

রেডিওথেরাপিঃ বিকিরণেরমাধ্যমে ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করা হয়।

এছাড়া,হরমোন থেরাপি,ইমিউনো থেরাপি বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ও ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।

ক্যান্সারের স্টেজ যেভাবে নির্ধারন করা হয়

অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা,ক্যান্সারের স্টেজ নির্ধারন করেন ক্যান্সারের ক্ষত কি পরিমাণে রয়েছে বা শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ক্যান্সার কতটা ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা মেটাস্টাসাইস হয়েছে কিনা তার উপর ভিত্তি করে।শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে বর্ন এবং সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

স্টেজ০ মানে হল বর্তমানে ক্যান্সার নেই,কেবল মাত্র অস্বাভাবিক সেল যা থেকে পরবর্তিতে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্টেজ১ মানে হল ক্যান্সারটি আকারে ছোট এবং এখন পর্যন্ত কেবল মাত্র একটি স্থানে আছে

স্টেজ১ এবং ২ মানে হল ক্যান্সারটি বড় এবং নিকটবর্তী টিস্যু বা লিম্ফ নোডে বেড়েছে।

স্টেজ৪ মানে হল ক্যান্সারটি আপনার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।

যেমন: “টি” অক্ষরটি দ্বারা টিউমার এবং “এন” অক্ষরটি দ্বারা ঘাড়ের লিম্ফ নোডকে বোঝায়।এবং প্রতিটি লেটার বা অক্ষররের জন্য ১-৪ বা ০-৩ পর্যন্ত গ্রেডিং রয়েছে।উদাহরণ হিসাবে বলা যায়,টি-১ টিউমার যুক্ত লোকেদের মধ্যে টিউমারটি ক্ষুদ্রতম আবার যাদের ক্যান্সার গ্রেড টি-৪ অর্থাৎ তাদের ক্ষেত্রে টিউমারের অবস্থা সর্বোচ্চ গ্রেডে আছে এবং দেহের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া,লো গ্রেড,মডারেট এবং হায় গ্রেড হিসাবে ও ক্যান্সারের স্টেজ নির্ধারন করা হয়।

লেখক : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড