• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৭:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৭:৫৮ পিএম

‘মেলায় কর্তৃপক্ষের ভতুর্কি দেওয়া উচিত’

‘মেলায় কর্তৃপক্ষের ভতুর্কি দেওয়া উচিত’

বইমেলার ২১তম দিনে বুধবার থেকে গণপরিবহন চালু হলেও মেলায় তেমন একটা জনসমাগম ও পাঠক দেখা যায়নি। গত দুদিনে মেলা যেমন প্রাণহীণ ছিল, আজও অনেকটা তেমন দেখা গেছে। প্রকাশক ও বিক্রেতারা বলছেন, তীব্র গরমের মধ্যে আমরা আসছি, যাচ্ছি। আমাদের ওপর একধরনের শাস্তির চলছে। বলা যায় একেবারে প্রাণহীণ মেলা। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, মেলার সময় তীব্র গরম। ফলে ক্রেতারা আসতে চাচ্ছেন না। তা ছাড়া করোনার কারণে অনেকে ভয়ে আসছেন না। আবার অনেক ক্রেতা বলেন, পাঠকরা তার প্রয়োজনীয় বই পাচ্ছেন না। বেশির ভাগ বই অপ্রয়োজনীয়। তবে স্বাস্থ্যবিধির ওপরে চলছে কঠোর নির্দেশনা। মেলা কর্তৃপক্ষ বারবার মাস্ক পরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রবেশের সময় তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র  ও হ্যান্ড সেনিটারাইজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিভাস প্রকাশনীর প্রকাশক বিপাশা মন্ডল বলেন, “বইমেলায় বিক্রির এত খারাপ যে, বলে বা লিখে বোঝানো যাবে না। আমাদের যে স্টল নির্মাণ, স্টল ভাড়া দিয়েছি, সেই অনুযায়ী বিক্রি খুবই কম হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এরপরে সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ফলে মেলায় ভাঙন ধরেছে। বইমেলার যে প্রাণ, তা হারিয়ে গেছে। বইমেলা বলতে কিছুই হচ্ছে না। আমরা নিয়ম পালন করছি। আসছি, পরিশ্রম করছি, চলে যাচ্ছি। এখন এটা আমাদের জন্য একটা শাস্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”

এই প্রকাশক আরো বলেন, “এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের ভতুর্কি দেওয়া উচিত। না হয় এবার যে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন প্রকাশকরা তাতে প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাবে।”

প্রিয় বাংলা প্রকাশনীর প্রকাশক এস এম জসীম বলেন, “আজ (বুধবার) থেকে যেহেতু গণপরিবহন চালু হয়েছে, সেহেতু ভেবেছিলাম মেলায় ক্রেতা আসবে। কিন্তু না গতকাল যেমন ছিল, আজও তেমনি।

দ্বিমিক প্রকাশনীর বিক্রেতা আশিকুজ্জামান রাজা বলেন, “ক্রেতা খুব বেশি নেই। খুবই কম। আমরা অবসর সময় কাটাচ্ছি বললেই চলে।”

সাহিত্যমালা প্রকাশনীর বিক্রেতা বিষ্ণু চন্দ্র দাস বলেন, “লকডাউন, করোনা এসব কারণে মানুষ এখন ভয়ভীতির মধ্যে আছে। আজকে গণপরিবহন চালু হলেও মানুষ মেলায় তেমন আসে না। বিক্রিও নেই।”

মেলায় ক্রেতার সংখ্য কম কেন জানতে চাইলে অনার্য মুর্শিদ নামে এক ক্রেতা বলেন, “করোনার কারণে যে বই বিক্রি কম হচ্ছে, তা নয়। বরং মানুষ আসলে তার প্রয়োজনীয় বইটাই খুঁজে পাচ্ছেন না। যেমন আমি তিনদিন ধরে একটি বই খুঁজছি সাইবার বুলিংয়ের ওপরে। এ ছাড়াও অনেক বই খুঁজছি। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছি না। সুতরাং মেলায় যে বইগুলো আছে, সেগুলো পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী বই নেই। মানসম্পন্ন বই নেই। মেলায় যা বই আছে বা কিনছে, অধিকাংশই ধর্মীয় বই বা জেহাদী বই। মানুষের যে বইগুলো প্রয়োজনীয়, সেগুলো আসলে মেলায় নেই। সেই কারণে প্রকাশকরাও হতাশ, পাঠকরাও হতাশ।

অমরাবতী প্রকাশনীর এক বিক্রেতা বলেন, “অনন্যদের চেয়ে আমরা ভালো বিক্রি করছি। তবে আমরা যেমন আশা করছি মানুষ আসবে, ভীড় করবে, সে আশানুপাত হচ্ছে না।”

মেলা আজ শুরু হয় বেলা ১২ টায় এবং চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৯টি। গল্প ৮টি, উপন্যাস ১১টি, প্রবন্ধ ৩টি, কবিতা ২৮টি, গবেষণা ২টি, ছড়া ৪টি, জীবনী ৩টি, মুক্তিযুদ্ধ ২টি, ভ্রমণ ১টি, ইতিহাস ২টি, বঙ্গবন্ধু ১টি ও অন্যান্য বিষয়ে ২টি বই।