• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১০:৩৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১০:৪৫ পিএম

আবরার ফাহাদ হত্যা

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় সতর্ক প্রশাসন

এসএম মুন্না
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় সতর্ক প্রশাসন
আবরার ফাহাদ

● উত্তাল বুয়েট, অবরুদ্ধ ভিসি

● অভিযুক্ত ছাত্রদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে

● শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে

●  ক্ষতিপূরণ ও মামলার খরচ বুয়েটকে বহন করতে হবে

● হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

● মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার দাবি

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে উত্তাল বুয়েট। তারই জের ধরে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। এই বিক্ষোভ বুধবার (৯ অক্টোবর) সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই আশঙ্কা থেকেই মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এই আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশবিরোধী যড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের ধারণা, সাধারণ ছাত্রদের এই আন্দোলনের মধ্যে সরকার-বিরোধী ছাত্রসংগঠন ঢুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হতে পারে। সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে পলাশী মোড় লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। 

ধারণা করা হচ্ছে, তাদের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সারাদেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষাসহ নানা রকম কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। এমনকি হতে পারে সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

ফাহাদের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে ঘটে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা। পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও। ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে বের হয় বিক্ষোভ মিছিল। পরে ডেইরি গেট থেকে প্রান্তিক গেট পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। 

খুলনার শিববাড়ি চত্বরে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে।

হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

ময়মনসিংহে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। নগরীর শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। 

নোয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচি পণ্ড হয় পুলিশের বাধায়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

বিক্ষোভে উত্তাল বুয়েট

ট্রিপল ই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকালে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে মিছিল বের করেন তারা। পরে অবস্থান নেন বুয়েটের শহীদ মিনারে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফাহাদের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ পরিচালনা করাসহ ৮ দফা দাবি জানান। পাশাপাশি বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।

মামলার সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে বলেও দাবি তোলা হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার পর ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। এসময় তিনি বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই বলেও জানান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন বুয়েট শিক্ষক কমিটিও। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসে ভিসির অনুপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ জানান তারা।

হত্যায় জড়িতদের বহিষ্কার করা হবে : বুয়েট ভিসি

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হন এবং বলেন, আবরার হত্যায় জড়িতদের বহিষ্কার করা হবে।

‍আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের তিনি বলেছেন, আবরার হত্যায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে বহিষ্কার করা হবে। তোমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে আমরা একমত। তবে আমার হাতে সব ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা অনুযায়ী তোমাদের দাবিগুলো মেনে নেবো।

প্রভোস্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলে তাকে ভিসি ভবনের নিচে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এসে ভিসি বলেন, আমি তোমাদের অভিভাবক, তোমরা আমার সন্তান। আবরারের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ কথা শোনার পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা বলেন, এটা একটা খুন, আপনাকে স্বীকার করতে হবে।

ভিসি বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তারা দেশের বাইরে আছেন। সেখান থেকে তারা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন আমি তা পালন করছি। আমি তোমাদের দাবিগুলো দেখেছি। এসব নিয়ে তোমাদের শিক্ষকদের সাথে কথা হয়েছে। আমি সব দাবি মেনে নিয়েছি।

১০ ছাত্রলীগ নেতা ৫ দিনের রিমান্ডে

হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ৫ দিন করে রিমান্ডে দিয়েছে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসিন আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।

রিমান্ডকৃত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।

দুপুরে তাদের আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশ। আসামিদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১০ আসামির মধ্যে ছয়জনের পক্ষে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করা হয় নি।

এর আগে সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আবরারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকতউল্লাহ রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

ভয় আর আতঙ্কে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা

নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরাজ করছে ভয় আর আতঙ্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অতীতেও এমন নির্যাতন সহ্য করতে হয়ে বহু শিক্ষার্থীকে। এ জন্য দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নমনীয়তা।

আবরার থাকতেন ১০১১ নম্বর রুমে। এর ঠিক ওপরেই ২০১১ নম্বর কক্ষ। যেখানে জেমি নামে আবরারের এক বন্ধু মৃত্যুর আগে ডেকে নিয়েছিলেন বড়ভাইদের নির্দেশে।

আশপাশের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা জানা গেছে এই হলের ২০১১, ২০১০, ২০০৫ নম্বর কক্ষে থাকেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। যারা প্রায়ই নানান অজুহাতে এসব কক্ষে নিজস্ব আদালত বসাতেন। বিচারের নামে চালানো হতো নির্যাতন। এসব নিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চান না।

বুয়েটে এর আগেও র‍্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় শুধু নোটিশ ঝুলিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছে প্রশাসন, এমন অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

মোমবাতি মিছিল

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টায় মোমবাতি প্রজ্বলন করে মিছিল করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাস পদক্ষিণ করে শেরেবাংলা হলে এসে শেষ হয়।

সব কিছুরই ঊর্ধ্বে মেধাবী আবরার

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় নিজ বাসার সামনে তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আবরার হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। তাদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন ১০ জন। কিন্তু এসবে থামবে আবরারের মায়ের বিলাপ? কোনোকিছুই যে আবরারকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না মায়ের বুকে। শোকে মুহ্যমান রোকেয়া খাতুন বারবার এ কথাই বলছেন, আমার ছেলের মতো ছেলে আর কোথায় পাবো? যার কোনো শত্রু পর্যন্ত ছিল না। তাকে কেনো এভাবে মেরে ফেললো ওরা?

ক্লাসে কখনও প্রথম ছাড়া কখনও দ্বিতীয় হন নি আবরার। অষ্টম ও দশম শ্রেণিতেও বিশেষ বৃত্তি পেয়েছিলেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন নটরডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। এবারও গোল্ডেন জিপিএ-৫।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন তিনি। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন আবরার। ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। সামনে পরীক্ষা বলে ক্যাম্পাস খোলার আগেই ফিরে আসেন হলে। কে জানতো দু’দিন পরেই আবার বাড়ি ফিরতে হবে লাশ হয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি

আবরারের চাচা মিজানুর রহমান আফসোস করে বলেন, আবরারকে শিবিরের কর্মী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ ও একজন উদারমনা ছেলে। আমরা গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে আবরার ধর্মভীরু ছিল। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং পবিত্র কোরআন শরীফ পড়ত। মাঝেমাঝে তাবলিগে যেত।

বাবার কাঁধে ছেলের লাশ
ছেলের লাশের ভার বইবার শোক সামলাতে হয়েছে যে বাবার, অশ্রুসিক্ত নয়নে জানালেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাল, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালাল, আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিশ্ব গণমাধ্যমে আবরার হত্যার খবর

নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বগণমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। ফরাসি গণমাধ্যম এএফপি, যুক্তরাষ্ট্রের ভয়েস অব আমেরিকা, কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা ও ভারতীয় দৈনিক হিন্দুতে এই হত্যার খবর এসেছে।

ছবি কাশেম হারুন, বিবিসি ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম

এসএমএম

আরও পড়ুন