• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০২:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০৩:০০ পিএম

তাজিয়া মিছিলে শোকের মাতম 

জাগরণ প্রতিবেদক
তাজিয়া মিছিলে শোকের মাতম 
ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল -ছবি : কাশেম হারুন

আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসেনী দালানের সামন থেকে শুরু হয় শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। মিছিলটি দুপুরে নগরীর ধানমণ্ডি লেকে গিয়ে শেষ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এ মিছিল বের হয়।

কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে কারবালার শোকের মাতম উঠে হাজার হাজার মানুষের অংশ নেয়া এই মিছিলে। বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ কান্নার মাতম ধ্বনি তুলে এগিয়ে যায় মিছিলটি। কেউবা এগোয় নওহা (শোকগীতি) পড়তে পড়তে কেউবা বাদ্য বাজাতে বাজাতে।

শিয়াদের এ তাজিয়া মিছিলটি বকশিবাজার, উর্দুরোড, লালবাগ চৌরাস্তা, ঘোড়া শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে জিগাতলা (ধানমণ্ডি লেকের কাছে) গিয়ে শেষ হয়। বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে, চিৎকার করে মিছিল যাওয়ার সময় পথের দু’পাশে ছিল উৎসুক জনতা ভিড়। মানুষ ছাদে দাঁড়িয়ে, জানালা দিয়ে বাড়ির বারান্দা ও করিডোরে দাঁড়িয়ে মিছিল উপভোগ করে। পুরো মিছিল ঘিরে ছিল পুলিশ, র‌্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল।

তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হোসেনী দালানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নেয়। তারা নাশকতা ঠেকাতে মিছিলে আসা লোকজনকে তল্লাশি করে ভেতরে নেয়।

এর আগে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাজিয়া মিছিলে পাইক (শরীর রক্তাক্ত করা) দলভুক্ত ব্যক্তিদের দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশ গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হোসেনী দালানের বাসিন্দা হাসনাইন মোস্তফা জুবায়ের বলেন, মিছিলে তাজিয়া, আলম, ঝুলা, তাবত নিয়ে সমবেত হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। মিছিলের সামনে ছিল দুইটি ঘোড়া, যাকে দুলদুল হিসেবেই চেনে সবাই। মিছিলের সামনে কালো কাপড়ের ইমাম হোসেনের (র.) তাজিয়া (প্রতীকী কবর) ছিল। নারী-পুরুষ শিশুদের হাতে অসংখ্য কালো, লাল ও সবুজ নিশান। তরুণদের (ভেস্তা) হাতে হাতে বিচিত্র আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় পতাকা) নিয়ে অগ্রসর হয় মিছিল।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এ দিনে কারবালা প্রান্তরে হত্যার স্মরণে মুসলমান সম্প্রদায় বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায় মহরম মাসে তাজিয়া মছিল বের করে।

এ বিষয়ে হোসনী দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ নাকি আসলাম জানান, ৪০০ বছর ধরে পুরান ঢাকায় শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। কারবালায় ইমাম হোসেনসহ তার পরিবারকে হত্যার মধ্যদিয়ে যে বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। মিছিলে শুধু শিয়া নয়, বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন।

ঢাকায় আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিল শুরুর সঠিক ইতিহাস না পাওয়া গেলেও মনে করা হয় ১৬৪২ সালে সুলতান সুজার শাসনামলে মীর মুরাদ হোসেনী দালান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ শোক উৎসবের সূচনা করেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় হিজরি ৬০ সালের ১০ মহররম হযরত মুহাম্মদের (স.) দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) ইসলামের তৎকালীন শাসনকর্তা এজিদের সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন। মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে শিয়ারা এ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এ দিনটিকে সুন্নিদের তুলনায় ভিন্নভাবে পালন করেন। 

এইচ এম/একেএস

Islami Bank