• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১১:১৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১১:১৩ এএম

মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে চিনি আতপ ধানের সোনালী শীষ

নওগাঁ সংবাদদাতা
মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে চিনি আতপ ধানের সোনালী শীষ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলতি আমন মৌসুমে চিনি আতপ ধানের সোনালী শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে চারদিকে বিরাজ করছে অপার দুলুনি। আর এ দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা সোনালী ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্তজোড়া সোনালী ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে। উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবারের চোখে মুখে এখন স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকদের বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠবে সোনালী ধানের হাসিতে। এমন আশায় দিন গুনছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে চিনি আতপ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭শ হেক্টর বেশি। সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচি, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, কৃষি অফিসের ব্যাপক তৎপরতা, ভেজাল মুক্ত সার-কিটনাশকের ব্যবহার, বাজারে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ, সহনশীল দাম, সহজলভ্যতা ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সরবরাহসহ আবাদ উপযোগী পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় চলতি মৌসুমে চিনি আতপ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উৎপাদনেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তাইতো কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। নতুন চিনি আতপ ধান উঠবে কৃষকের গোলায়। কৃষাণীরা গোলা, খলা, আঙ্গিনা পরিষ্কারে ব্যস্ত। আর কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬-২০ টি অটো রাইস মিলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্টিক টন আতপ চাল উৎপাদন হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, যশোর, কুমিল্লা, সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়ে-জন্মদিনসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে চিনি আতপ চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এর সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ আমেরিকাতেও রপ্তানি হচ্ছে। এতে কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান বলেন, ক্ষেতে চাষাবাদকৃত ধান গত বারের চেয়ে এবার ভাল হয়েছে। আর কয়েকদিন পর কাটা শুরু করা যাবে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তবে এবার চিনি আতপ ধানের বাম্পার ফলন হবে। 

উপজেলার তাতারপুর গ্রামের কৃষক মারুফ সরদার বলেন, বীজ তলা থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হবে ৬-৭ হাজার টাকা। এবার আশা করছি ভাল ফলন পাওয়া যাবে, বিঘাপ্রতি প্রায় ১৭ মণ পর্যন্ত। এতে বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি মণ বিক্রি হবে ১৩শ থেকে ১৪শ টাকা। হিসাব অনুযায়ী বিঘাপ্রতি প্রায় লাভ হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠবে মন। ধান বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের নতুন জামা, জুতা, বই, খাতা, কলমসহ শীতের পিঠা উৎসবে মেতে উঠবে গ্রামের কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, প্রকৃতি চলতি মৌসুমে চিনি আতপ ধান চাষের অনুকূলে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ নেই। তাই আশা করি এবারো বাম্পার ফলন হবে। এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবেন।

কেএসটি

আরও পড়ুন