• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ০৩:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ০৩:২৪ পিএম

হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি বন্ধ চান উৎপাদকরা

জাগরণ প্রতিবেদক
হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি বন্ধ চান উৎপাদকরা

দেশীয় শিল্প রক্ষার স্বার্থে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে উৎপাদকরা। দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি মাংস উৎপাদন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংগঠন এ দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ প্রসঙ্গে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়েছে। এনিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব), বাংলাদেশ এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রী এসোসিয়েশন, বেঙ্গল মিট, বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মার্স এসোসিয়েশন (বিডিএফএ), বাংলাদেশ ভেটেরিনারী 
এসোসিয়েশন (বিভিএ), এগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েন্ট ইম্পোর্টার্স ট্রেডার্স এসোসিয়েশন সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন মিলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে আহকাব এর প্রেসিডেন্ট ডা. এম নজরুল ইসলাম মূল বক্তব্য পড়ে শোনান। 

বাংলাদেশের মাংস উৎপাদনের উপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী। 

এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতি ১২০ গ্রাম করে মাংসের মাথাপিছু চাহিদা হিসাবে বার্ষিক চাহিদা ৭২ দশমিক ৯৭ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গবাদিপশু ও হাঁস মুরগি থেকে মোট মাংস উৎপাদিত হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ লক্ষ টন। চাহিদার চেয়ে বেশি মাংস উৎপাদিত হওয়ার পরও বিদেশ থেকে হিমায়িত মাংস আমদানির প্রক্রিয়ার কারণে আমরা উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘ডেইরী ও ক্যাটল শিল্প বাংলাদেশের একটি মৌলিক ও বিকাশমান শিল্প। এখানে আমদানি নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর সঙ্গে কোটি কোটি পরিবার ও খামাড়ির জীবন জীবিকা জড়িত। অনেক শিক্ষিত যুবকরাও এখন এ খাতে এসে অবদান রাখছে। দেশে চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে এবং রপ্তানিও হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের আত্মঘাতি সিদ্ধান্তে সবাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’   

প্রতিবেশি দেশগুলোতে অনেক কম দামে গরুর মাংস বিক্রি হলেও দেশের বাজারে ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কেন আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না এমন প্রশ্ন করা হলে বিডিএফ এর সেক্রেটারী শাহ এমরান বলেন, ‘সিন্ডিকেট করে পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণেই আমরা কম দামে মাংস দিতে পারছি না। দুই বছরে খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে পারলে আমরা অনেক দেশের তুলনায় কম দামে মাংস দিতে পারবো।

শরীফ আহমেদ চৌধুরী তার উপস্থাপনা তুলে ধরে বেশ কিছু সুপারিশের কথা বলেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এদেশে মাংস আমদানি বন্ধ করতে হবে। দেশেই যাতে গুণগত ও পরিমাণগতভাবে মানসম্পন্ন গরুর মাংস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা, মাংস রপ্তানির সকল নীতিসহায়তা প্রদানের দাবি করা হয়। 

এআই/টিএফ

আরও পড়ুন

Islami Bank