• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ০৫:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ০৫:৩৭ পিএম

খাশোগি হত্যার রেকর্ডিং প্রকাশ করলো বার্তা সংস্থা ‘ডেইলি সাবাহ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
খাশোগি হত্যার রেকর্ডিং প্রকাশ করলো বার্তা সংস্থা ‘ডেইলি সাবাহ’
তুর্কি জাতীয় বার্তা সংস্থা দ্য ডেইলি সাবাহ

..................................................।।..........

সৌদি সাংবাদিক খাশোগি হত্যার রেকর্ডিং লিখিত আকারে প্রকাশ করেছে তুরস্কের জাতীয় দৈনিক ডেইলি সাবাহ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত ওই রেকর্ডিংটিতে কী আছে সে সম্পর্কে রবিবার আদালতকে জানানো হয়েছে। এরপর সোমবারই এটি প্রকাশ করেছে ডেইলি সাবাহ।

রেকর্ডিংটিতে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ও ১৫ সদস্যের হত্যাকারী দলটির বিস্তারিত কথোপকথন রয়েছে।

ওইদিন জামাল খাশোগি তার বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে যান। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসেননি তিনি। শুরুতে সৌদি কনস্যুলেট দাবি করে, খাশোগি বের হয়ে গেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপে খাশোগি নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে তারা। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্তে খাশোগি হত্যার সঙ্গে সৌদি প্রশাসনের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

..........................................................................................

রেকর্ডিংটিতে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ও ১৫ সদস্যের হত্যাকারী দলটির বিস্তারিত কথোপকথন রয়েছে 

..........................................................................................

রেকর্ডিংয়ের অনুলিপিতে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর খাশোগি কনস্যুলেট ভবনের ভেতর ঢুকতেই সৌদি আরবের সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেহরক্ষী মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব খাশোগিকে বলেন, প্লিজ বসুন। আপনাকে আমাদের রিয়াদে নিয়ে যেতে হবে। ইন্টারপোল থেকে নির্দেশ এসেছে। ইন্টারপোল চায় আপনি ফিরে যান। আমরা আপনাকে নিতে এসেছি।

জবাবে খাশোগি বলেন, আমার বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা নেই। তাছাড়া আমার বাগদত্তা আমার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এদের দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি হয়। হত্যার আগের শেষ ১০ মিনিট মুতরেব বারবার খাশোগিকে চাপ দিচ্ছিলেন তার ছেলের জন্য মেসেজ রেখে যেতে যে, বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও খাশোগির ছেলে যেন দুশ্চিন্তা না করেন।

..........................................................................................

লিখুন মি. জামাল। জলদি করুন। আপনি আমাদের সাহায্য করুন যেন আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পারি। কেননা শেষমেশ ঠিকই আমরা আপনাকে সৌদি আরবে ফেরত নিয়ে যাব আর আপনি যদি আমাদের সহায়তা না করেন তাহলে আপনি কিন্তু জানেন তখন কী হবে

..........................................................................................

খাশোগি ছেলের জন্য মেসেজ রেখে যেতে অস্বীকৃতি জানালে মুতরেব বলেন, লিখুন মি. জামাল। জলদি করুন। আপনি আমাদের সাহায্য করুন যেন আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পারি। কেননা শেষমেশ ঠিকই আমরা আপনাকে সৌদি আরবে ফেরত নিয়ে যাব আর আপনি যদি আমাদের সহায়তা না করেন তাহলে আপনি কিন্তু জানেন তখন কী হবে।

তখনই খাশোগি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া ১৫ জনের একজন জামাল খাশোগির দেহে চেতনানাশক ওষুধ ঢুকিয়ে দেন। জ্ঞান হারানোর আগে খাশোগির শেষ কথা ছিল- আমার অ্যাজমা আছে। এমনটা করবেন না, আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।

এর কিছু সময় পর, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে অডিও রেকর্ডে লাশ কাটার করাত দিয়ে ৫৯ বছর বয়সী সৌদি সাংবাদিকের দেহের অংশ বিচ্ছিন্ন করার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। প্রক্রিয়াটি প্রায় আধঘণ্টা চলেছিল।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

এসকে

আরও পড়ুন

Islami Bank