• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০, ০৭:৫৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০, ০৭:৫৩ পিএম

বইমেলায় এসেছে সাদত আল মামুদের উপন্যাস ‘এক আনা মন’

জাগরণ প্রতিবেদক
বইমেলায় এসেছে সাদত আল মামুদের উপন্যাস ‘এক আনা মন’

অমর একুশে বইমেলায় এসেছে সাদত আল মামুদের ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘এক আনা মন’। এটি প্রকাশ করেছে কাকলী প্রকাশনী। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৭ নম্বর প্যাভিলিয়ন বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

উপন্যাসটি সম্পর্কে লেখক বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখেছেন, যা ইতিহাস তাই অতীত, সব অতীত ইতিহাস নয়। আজকের ঘটে যাওয়া ঘটনা আগামীকাল অতীত। অতীত ইতিহাসের খাতায় আশ্রয় পাবে কি? -সেটা ঘটনার গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে। 

‘এক আনা মন’ উপন্যাসে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ সময়কে বেছে নেয়া হয়েছে। সৈয়দ আকবরের নর্তকীর মেয়ের সঙ্গে তার সন্তান যোবায়েরের প্রণয় ঘটে। যোবায়েরের সঙ্গে প্রণয়ের কারণে সৈয়দবাড়ির ভাসমান আশ্রয়টুকুও মমতাজ-নার্গিসকে হারাতে হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের নোবেল অর্জন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ খুব কাছাকাছি সময়ের। শরৎচন্দ্রের অবহেলিত লেখা ‘দেবদাস’ কীভাবে বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থে পরিণত হয়, সেই বিষয়টিও এ উপন্যাসে উঠে এসেছে। 

নর্তকীর মেয়ের সঙ্গে অসম সম্পর্ক গড়ে ওঠার ভয়ে সৈয়দ আকবর নিজ সন্তানকে কলকাতায় পড়তে পাঠায়। যোবায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে পুনরায় সরাইলে ফিরে নার্গিসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। সৈয়দ আকবর ভয়ঙ্করভাবে তার স্বরূপ প্রকাশ করতে শুরু করে। মমতাজ-নার্গিস দুজনকেই নওগাঁ গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। মা-মেয়ে দুজন ঢাকা শহরে আশ্রয় নেয়। যোবায়ের কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে ঢাকার মেয়ে ইয়াসমিনকে বিয়ে করে। কয়েক বছর যেতেই ওদের দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। যোবায়েরের মতো নার্গিসও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়। ভারতবর্ষে সর্বত্র ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হয়। মার্কিন- ব্রিটিশ মিত্রবাহিনী গড়ে ওঠে। ইংরেজদের কৌশলী প্রলোভনে ভারতীয় নওজোয়ানরা মিত্রবাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা, পাঞ্জাব, বাংলাদেশসহ ভারতের অনেক জায়গাতেই জার্মানিরা বোমা মেরে জানমালের ক্ষতি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামে দুটি পারমাণবিক বোমা ফেলে। পারমাণবিক বোমার আঘাতে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। 

ব্রিটিশ শাসনামলের সমাপ্তির পথে এসে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ভারতের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের উদ্যোগে ভারত-পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যোবায়ের নার্গিস দীর্ঘ দিন একাকী জীবনযাপন করে দুজনই নিজেদের জন্মস্থান সরাইলে ফিরে আসে। দীর্ঘদিন পর দুজনের মিলনের পথে নার্গিসের আক্ষেপ, ‘তুমি তো আমাকে কখনো এক আনা মনও দাওনি। আমি তোমাকে ষোলো আনা মন দিয়েই ভালোবেসেছি’। যোবায়ের নার্গিসের কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলে, ‘আমিও তোমায় ভালোবেসেছি; তবে সেটা এক আনা যোলো আনা- সে তর্কে যাব না, যা এক আনা তাই ষোলো আনা’।

সাদত আল মামুদের জন্ম ১ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে, টাঙ্গাইলে। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। ১৮ বছর বয়সেই ‘শেষ বেলায়’ নামে প্রথম উপন্যাস লেখেন, যেটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের মহান একুশে বইমেলায়। একই বছরে তার ‘চিতার আগুনে’ নামে আরও একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। বইটি সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং প্রথম বছরেই এর দ্বিতীয় মূদ্রণ প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় ভৌতিক গল্প ‘ভূত ধরার অভিযান’। এ বইটি ২০২০ সালের গ্রন্থমেলায় দ্বিতীয় মুদ্রণ হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘রাজাকারকন্যা’ যা বছর পেরোতেই তিনটি মুদ্রণ সম্পন্ন হয়। 

তিনি উপন্যাস, ছোট গল্প, রম্য উপন্যাস, কিশোর গল্প, ভৌতিক গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, নিবন্ধসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ : শেষ বেলায় (উপন্যাস), চিতার আগুনে (উপন্যাস), প্রসব বেদনা (উপন্যাস), ভূত ধরার অভিযান (ভৌতিক গল্প), রমনীদ্বয় (উপন্যাস), গগেন্দার গল্পের ঝুড়ি (শিশুতোষ গল্প), রাজাকারকন্যা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।

এফসি