• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ মে, ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২১, ০৬:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৬, ২০২১, ১২:৪১ পিএম

অন্তরঙ্গ ও অন্তরালের বঙ্গবন্ধুর গল্প

অন্তরঙ্গ ও অন্তরালের বঙ্গবন্ধুর গল্প

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে উপলক্ষ করে তাঁকে ঘিরে বহু ধরনের উদ্যোগ ও আয়োজন চলছে। এর অন্যতম মুজিব বর্ষে জাতির পিতাকে ঘিরে অসংখ্য বইয়ের প্রকাশ। সেসব বইয়ের মধ্যে পাঠযোগ্য কিংবা বঙ্গবন্ধুকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার উপকরণ খুব সামান্যই। অধিকাংশই পুরোনো লেখার নতুন চেহারায় প্রকাশ কিংবা একই লেখা বিভিন্ন সংকলনে বারবার গ্রন্থিত করে বাণিজ্যিক মুনাফাকরণের প্রয়াস। এই যখন বাস্তব অবস্থা, তখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই ডামাডোলের অনেক আগেই প্রকাশিত কিছু কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের দিকে ফিরে তাকানো খুব জরুরি মনে করছি। আর তেমন একটি বই নিয়েই সামান্য আলোকপাতের চেষ্টা থেকে এই রচনাটি।

১.
কিছু কিছু বই থাকে, মনে হয় এই বইগুলো রচিত না হলে ইতিহাসই অসম্পূর্ণ থাকত। অথচ এসব বইয়ের লেখকদের অনেকেই পেশাদার নন, কিংবা নন খ্যাতিমান বা তারকাগোছের কেউ। বরং তাঁরা থাকেন আড়ালে, কাজ করেন নেপথ্যে। বরং অনেক বড় মানুষ, ইতিহাস ও কর্ম সৃষ্টিতে তাঁরা নীরবে কাজ করে চলেন। এমনই একজন মানুষ মমিনুল হক খোকা। বঙ্গবন্ধু ১৯৩৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ছিলেন। এর মধ্যে অতি তরুণ বয়সেই কিছুদিন ছিলেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। কিন্তু এসবের বাইরে তাঁর জীবনের প্রধান অংশই কেটেছে বাংলার পথে-প্রান্তরে, রাজপথে আর কারাগারে। ফলে যাকে বলে পারিবারিক জীবন, সে অর্থে তা যাপনের সুযোগ খুবই কম পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু। যদিও সৌভাগ্যক্রমে বাল্যেই নিজের অজান্তেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন চাচাতো বোন ফজিলাতুন্নেছা রেণুকে আর তাঁর সীমাহীন আত্মত্যাগ, অসীম ধৈর্য, দেশপ্রেম এবং স্বামীর প্রতি অগাধ আস্থা ও ভালোবাসার কারণে বঙ্গবন্ধুকে অন্তত তেমন সংসার-দাম্পত্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। 
কিন্তু ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও ছিলেন সাধারণ গ্রামীণ নারী। ফলে সম্পূর্ণ বৈরী পরিবেশে ঢাকায় স্বামী-সংসার-সন্তান সামলাতে গিয়ে তাঁকে প্রতিনিয়তই মোকাবিলা করতে হয়েছে অসহনীয় বাস্তবতার। এই অবস্থায় তাঁদের পরিবারে যিনি সার্বক্ষণিক ত্রাতার ভূমিকায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন, তিনি এই মমিনুল হক খোকা। সম্পর্কে তিনি বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই। উভয়েরই ডাকনাম খোকা। আর বঙ্গবন্ধু তাঁর কাছে ছিলেন ‘প্রিয় মিয়াভাই’। অন্যদিকে বেগম মুজিব তাঁকে আদর করে ডাকতেন ‘ভাডি’ (‘ভাইটি’র সস্নেহ আঞ্চলিক উচ্চারণ) ।
এই মানুষটি যখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার নিয়ে কিছু লিখবেন, সেটি যে আলাদা ও অন্তরঙ্গ হবে, তাতে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। বইটির নামটিও তাই যথার্থ: ‘অস্তরাগে স্মৃতি সমুজ্জ্বল: বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও আমি’। যেহেতু জীবনের শেষ পর্বে এসে স্মৃতিচারণা, তাই ‘অস্তরাগে স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ আর যেহেতু জীবনের অনেকটা জুড়েই বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, তাই ‘বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও আমি’। প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে, আজ থেকে একুশ বছর আগে।

২.
তবে তাঁর এই ‘আমি’ কোনো অহংকারী বা আত্মগর্বী কেউ নন, বরং বইটির প্রাণ। কারণ, পঞ্চাশের দশকের শুরু থেকেই আমৃত্যু লেখক ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিত্যসহচর এবং বহু ছোট-বড় ঘটনা এবং আনন্দ-বেদনার প্রত্যক্ষদর্শী। আর নিজের চোখের সামনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকেই তিনি অতি যত্ন ও মমতায় উত্তমপুরুষে আটপৌরে ভাষায় লিখেছেন। তাই তাঁর ‘আমি’র উপস্থিতি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। 
একাই ডাকনামের এই অনুজ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর স্বীকারোক্তিতেই এর গুরুত্ব স্বয়ংপ্রমাণিত: “খোকা, তোর ওপর আমি নির্ভর করি। তুই তো জানিস, যে জীবন আমি বেছে নিয়েছি তার কোনো নিশ্চিত স্থিতি নেই, কখন কোথায় থাকি। জানি আমার বহু আত্মীয় আছে, আছে অসংখ্য সুহৃদ, অগণিত ভক্ত কিন্তু তোকেই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ মনে হয়। তোর ওপরই দিয়েছি তোর ভাবি আর আমার দেখাশোনার ভার।” (পৃষ্ঠা ১৬)

অন্যদিকে স্বাধীনতার পর বেগম ফজিলাতুন্নেছা একটি বিদেশি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এভাবে, “বিড়াল যেমন তার বাচ্চাদেরকে কাঁধ কামড়ে ধরে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় নিয়ে যায়, আমার এই ভাই তেমনি আমাদের সবাইকে নিয়ে এক বাসা থেকে আর এক বাসাতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছিল—এ ভাইয়ের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ দিতে পারবো না।” (পৃষ্ঠা ২০-২১)
আবার বইটিতে লেখক যে কেবল বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের কথাই বলেছেন তা নয়, বরং এর মধ্য দিয়েই পাকিস্তান ও বাংলার ইতিহাসের অনেক ঘটনা ও ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। যেমন ইতিহাসের একটি মূল্যবান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর একটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: “১৯৫৫ সনের অক্টোবর মাসে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলে পরিণত করা হয়েছিল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রস্তাবটি উত্থাপন ও এর সপক্ষে বক্তব্য রাখেন খুলনা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন পরিষদ সদস্য শেখ আবদুল আজিজ, যিনি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছিলেন। আজ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন কিন্তু নিতান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এখন অবহেলিত, সরকারি কোন কর্মকাণ্ডেই তাঁর নাম শোনা যায় না।” (পৃষ্ঠা ৫০)
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক মানসপুত্র ও অতি স্নেহভাজন হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁর অনেক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেও পিছপা হননি। আবার বাংলা ও বাঙালি প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর যে আপসহীন ভূমিকা এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে দূরদর্শিতা—বইজুড়ে রয়েছে এর বহু আকর্ষণীয় নেপথ্য বর্ণনা।

৩.
বলা ভালো, দুই শতাধিক পৃষ্ঠার বইটির প্রতিটি পাতাজুড়েই রয়েছে বহু অলিখিত ও আকর্ষণীয় ঘটনার বর্ণনা, যা বাঙালির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে কাজ করবে।
আর বইটি রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বয়ং লেখক ‘মনে পড়ে’ নামের প্রারম্ভিক রচনায় বলেছেন: ‘বঙ্গবন্ধুর একান্ত প্রিয় অনুজ (তাঁর আপন ফুফাতো ভাই), তাঁর পারিবারিক পরিমণ্ডলের প্রায় অবিচ্ছেদ্য সদস্য, পরিবারের সুখ-দুঃখের সার্বক্ষণিক সাথী এই যে আমি, আমারও তো কিছু দায়িত্ব রয়েছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই মহান নেতার জীবন-সংগ্রামের কিছু কিছু ঘটনা স্মৃতিচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার।’
মনে হয় সে দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবেই পালন করেছেন। কেবল তা-ই নয়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অজস্র অর্থহীন বইয়ের ভিড়ে যে গুটিকয় সত্যনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ হিসেবে পরিগণিত হবে, তার মধ্যে বইটি নিঃসন্দেহে বিশেষ মর্যাদার স্থান পাবে।
বইটি সম্পাদনা করেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। উপরন্তু ‘এই লেখক’ শিরোনামে তাঁকে নিয়ে একটি অসাধারণ স্মৃতিচারণাও করেছেন। তাঁর সম্পর্কে সৈয়দ হক যথার্থই বলেন, ‘তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের প্রায় সূচনাকাল থেকেই তাঁর নিত্যসহচর খোকা, বিশ্বস্ত সচিব, ব্যক্তিগত সেবক ও রাজনৈতিক সঙ্কটসঙ্কুল মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর গাড়িচালক। তিনি একাত্তরের করাল দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অভিভাবক। তিনি বঙ্গবন্ধুর সন্তানদের খোকা কাকা। আজীবন তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও উচ্চাশার অনেক ঊর্ধ্বে গণনা করেছেন বাংলার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এক সন্তান শেখ মুজিবের সেবা।’
২৩ মে ২০১৪-এ তাঁর মৃত্যুর পরদিন বরেণ্য কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ কথা’ শিরোনামে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি লেখেন। জরুরি ও প্রাসঙ্গিক বিবেচনা এর খানিকটা উদ্ধৃত করি: ‘তিনি রাজনীতি করতেন না। কিন্তু ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির ছায়াসঙ্গী।...বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হলেও খোকা ভাই ছিলেন একেবারেই একজন সাধারণ মানুষ।...খ্যাতি-অখ্যাতির পর্দার আড়ালে। নিকট আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব ছাড়া তার নামটিও অনেকে জানেন, তা মনে হয় না। কিন্তু মানুষটি সাধারণ এবং একজন নেপথ্যচারী হলেও তার জীবনের কাজকর্ম ছিল অসাধারণ। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি নিয়ে কেউ যদি বড় বই লেখেন, তাহলে সে বইয়ে মমিনুল হক খোকার নাম উল্লেখ করা না হলে অন্যায় করা হবে।...বঙ্গবন্ধুর মুখে প্রায়ই খোকা কোথায় ডাকটি শুনতাম এবং প্রায়শই তিনি খোকা ভাইকে কাছে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু ঘন ঘন জেলে যেতেন। আর এই সময় খোকা ভাই হয়ে উঠতেন তার পরিবারের সবচাইতে বড় নির্ভরতা। বঙ্গবন্ধু-পত্নীর হাতের লাঠি। এই পরিবারের দেখাশোনা করতে গিয়ে তিনি গোয়েন্দাদের পিছু ধাওয়া, আইয়ুব-মোনেমের আমলের চোখ রাঙানি গ্রাহ্য করেননি। এমনকি সেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময়। বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। বত্রিশ নম্বর বাড়ির আশপাশে একটা কাকপক্ষীও ঘেঁষে না। তখনো খোকা ভাই এই পরিবারের সবচাইতে বড় নির্ভর এবং বাইরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী ছিলেন। নিজের সংসারের চাইতেও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের গুরুত্বই ছিল তার কাছে বেশি। খোকা ভাইয়ের একটি সাদা টয়োটা গাড়ি ছিল। এই গাড়িটি বঙ্গবন্ধু প্রায়ই ব্যবহার করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ঢাকায় মার্চ মাসে (১৯৭১) মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি হতো ঢাকায় তখনকার প্রেসিডেন্ট ভবনে (স্বাধীনতার পর প্রথম গণভবন)। বঙ্গবন্ধু বত্রিশ ধানমন্ডি থেকে খোকা ভাইয়ের সাদা টয়োটা গাড়িটিতে চেপে প্রেসিডেন্ট হাউসে এই বৈঠকে যাতায়াত করতেন। কখনো কখনো খোকা ভাই গাড়িটি ড্রাইভ করেছেন। এই গাড়িটি তাই একটি ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছিল। যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গাড়িটির সেই মর্যাদা ক্ষমতা দখলকারী ঘাতকেরা আর রক্ষা করেনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনায়, বঙ্গবন্ধুকে যখন (পশ্চিম) পাকিস্তানের এক জেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে পাকিস্তানি সৈন্যদের পাহারায় অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে ধানমন্ডির অন্য একটি বাড়িতে; তখন ভয়ে এই পরিবারের খোঁজ-খবরও কেউ নিতেন না। তখন খোকা ভাই নিত্য এই বাড়িতে যেতেন। তাদের জন্য বাজার সওদা পর্যন্ত করে দিতেন। হানাদার সৈন্যদের বেয়নেট এবং বডি সার্চের মধ্য দিয়ে খোকা ভাইকে এই বাড়িতে যেতে হতো। হানাদার কর্তৃপক্ষ তাকে এই পারমিশন দিয়েছিল, তবে তার উপর কঠোর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হতো। সামান্য সন্দেহ হলেই তারও কারাগারে নিক্ষিপ্ত হওয়ার অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। খোকা ভাই সেই ভয়টি জয় করেই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।’ [লন্ডন, ২৪ মে, শনিবার, ২০১৪। সূত্র: ইত্তেফাক]

৪.
প্রকৃত প্রস্তাবে, বইটির পাতার পর পাতায় এত সব জানা ও অজানা ঘটনার বর্ণনা এবং জননেতার আড়ালে ব্যক্তিগত ও নিজস্ব শেখ মুজিব এমনভাবে প্রকাশিত, এগুলোর অতি গুরুত্বপূর্ণগুলো উদ্ধৃত করলেও একটি ছোট পুস্তক হয়ে যাবে। তাই সেই লোভ সংবরণ করছি। সঙ্গে পাঠককে সবিনয়ে অনুরোধ করছি: যদি আপনি মানুষ বঙ্গবন্ধুকে ভেতর থেকে জানতে চান এবং তাঁর সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার সহৃদয়-ইতিহাস জানতে চান, তবে পুরো বইটির সঙ্গেই মানসভ্রমণ করুন। আপনার প্রাপ্তি হবে কল্পনার চেয়েও বেশি।

অস্তরাগে স্মৃতি সমুজ্জ্বল : বঙ্গবন্ধু, ও তাঁর পরিবার ও আমি : মমিনুল হক খোকা, চতুর্থ প্রকাশ এপ্রিল ২০১৭ (প্রথম প্রকাশ ২০০০), প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী, প্রকাশক : সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা। মূল্য: ৪৫০ টাকা। পৃষ্ঠা ২১৬