• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২২, ০১:০৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১২, ২০২২, ০৭:০৩ পিএম

নিলামে বিক্রি হচ্ছে দেশের প্রথম শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নিলামে বিক্রি হচ্ছে দেশের প্রথম শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সংগৃহীত ছবি

নিলামে বিক্রি হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্টের ভবন।

শত বছরের পুরনো ভবনটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। যদিও বর্তমানে নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন চিত্রশিল্পী শশীভূষণ পাল। তার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট। যার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯০৪ সালে।

পরে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি জেলা বোর্ড ও সরকারি অনুদান পেতে শুরু করে। ১৯২৯ সালে বিদ্যালয়টি যশোর রোডের পশ্চিম পাশে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেই সরকারি ভবটি গড়ে ওঠে।

১৯২৯ সালে বর্ধমানের মহারাজাধিরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারিভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বছরের ১৯ মে ভবনটির উদ্বোধন করেন সে সময়ের খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর এইচ কুইনন্টন। ভবনের দেয়ালে থাকা শিলিলিপিতেই এসব তথ্য লেখা আছে।

এরপর ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চারুকলা ইনস্টিটিউট তথা ‘চারুকলা স্কুল’-এ পরিণত হয়।

বর্তমানে এটি বাঙালির প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তবে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন নিলামে বিক্রি হতে যাচ্ছে। চলছে ভাঙার তোরজোর।

এরই মধ্যে নিলামে অংশ নেয়ার দরপত্র জমা দিয়েছে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ভবনটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

তবে বর্তমানে নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাপনা অপসারণ কমিটির সদস্য সচিব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শেখ সাদী ভূঁঞা বলেন, শতাব্দীর প্রাচীন পথিকৃৎ শিল্পী শশীভূষণ পাল রায় সাহেবের স্মৃতি বিজড়িত ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। যেভাবেই হোক ভবনটি সংরক্ষণ করা উচিত।

একতলা এই ভবনটি চুন-সুরকি আর ইটের গাঁথুনিতে তৈরি। বারান্দার সামনে ছয়টি প্রবেশপথসহ মোট ৯টি দরজা রয়েছে। ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য আর ২৫ ফুট প্রস্থের ভবনটির দরজা-জানালাগুলো বেশ প্রশস্ত। লোহার পাতের ওপর মাটির টালি বসিয়ে তার ওপর ছাদ ঢালাই দেওয়া। ভবনের গায়ে কয়েকটি অশ্বত্থগাছ বড় হয়ে উঠছে।

জাগরণ/এসএসকে