• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২২, ১২:৪৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৯, ২০২২, ১২:৫৭ এএম

বিশ্বকাপের ট্রফি দেখে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপের ট্রফি দেখে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী ট্রফি ভ্রমণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি।

বুধবার (৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ ভবনের লবিতে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ বরণ উপলক্ষে আগত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলায় বিশেষ করে ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন তার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভাইয়েরা, সন্তানরা এমনকি নাতি-নাতনিরাও অত্যন্ত ক্রীড়ামোদী এবং ক্রীড়াবিদ ছিলেন। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফির আগমনে ফিফা, কোকাকোলা এবং বাফুফে কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন ফিফা ট্রফির বাংলাদেশ ভ্রমণের ফলে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম উৎসাহিত হবে। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

সবশেষে ফিফা এবং কোকাকোলার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সিনিয়র সচিব) খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম,  যুব ও ক্রীড়া সাচিব মেজবাহ উদ্দিন, বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ. সালাউদ্দীন, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ সহ ফিফা, কোকাকোলা এবং বাফুফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কাতার বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত ১২ মে দুবাই থেকে কোকাকোলার আয়োজনে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। ৫৬টি দেশ ঘোরার পথে ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক কোকাকোলার উদ্যোগে বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহায়তায় বাংলাদেশে এসেছে ট্রফিটি।

প্রায় ৯ বছর পর ফের ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি এলো বাংলাদেশে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দু’দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। তাই এ ট্রফি নিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে ফুটবলপ্রেমীদের।

বুধবার (৮ জুন) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় ট্রফিটি।

প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে প্রদর্শন করতে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রফিটি। এ সময় ট্রফির সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একটি প্রতিনিধি দল।

বঙ্গভবনে ট্রফি প্রদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, রাষ্ট্রপতির ছেলে রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান লালি কারেম্বু ও কোকা-কোলা কোম্পানির ভারত ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার সভাপতি শংকেট রায়। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি সচিব, ক্রীড়া সচিব ও উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

 

রাষ্ট্রপতি এসময় বাংলাদেশে ট্রফি নিয়ে আসায় ফিফাসহ সংশ্লিষ্ট স কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। এরকম উদ্যোগের ফলে ফলে খেলোয়াড়, সংগঠক ও সমর্থকরা ফুটবলের প্রতি আরো বেশি উৎসাহিত হবে এবং বাংলাদেশের ফুটবল আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সফর শেষে বৃহস্পতিবার  দিবাগত  রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিশ্বকাপ ট্রফি উড়াল দেবে পরবর্তী গন্তব্য পূর্ব তিমুরের উদ্দেশে। মঙ্গলবার (৭ জুন) পর্যন্ত ট্রফিটি ছিল পাকিস্তানে।

ফিফার ৭ সদস্য (৮ জুন) রয়েছেন ট্রফির সাথে। এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের মিড ফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুও রয়েছেন।

অতিথিদের বরণ করতে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ট্রফিটি রাখা হবে হোটেল রেডিসনে। এ সময় ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন বাফুফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

পরে বিকেলে ট্রফি নিয়ে যাওয়া হবে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে ট্রফি প্রদর্শনের সঙ্গে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

অবশ্য ক্যাম্পেইন থেকে টিকিট সংগ্রহ করা কোকাকোলার গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার (৯ জুন) দুপুর আড়াইটার মধ্যে র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে গিয়েও বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলতে পারবেন।

কনসার্ট শেষে রাতে ট্রফি আবার নিয়ে যাওয়া হবে র‍্যাডিসনে।

জাগরণ/খেলা/বিশ্বকাপফুটবলট্রফি/এসএসকে