• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২০, ১২:৫৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৬, ২০২০, ১২:৫৬ এএম

মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে বারবার ধর্ষণ

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে বারবার ধর্ষণ
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দোহার উপজেলার হত্যার ভয় দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ভূক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। প্রথম মামলায় একজন, দ্বিতীয় মামলায় দুইজন ও তৃতীয় মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) মামলার পরপরই উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অপরাধে বাড়িওয়ালা সোমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে  আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি সাজ্জাদ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা একজন রিকশাচালক। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। প্রায় চার মাস আগে স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বিলাসপুর গ্রামের সোমাদের বাড়িতে ভাড়া আসেন তারা। এরপর একই গ্রামের সেলিম চোকদারের মেয়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর সখ্যতা গড়ে উঠে। সেই সুবাদে মাঝে-মধ্যেই রাতে তার সঙ্গে রাতে ঘুমাতে যেতেন ওই কিশোরী।

ভূক্তভোগী কিশোরী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে এক রাতে সেলিম চোকদারের মেয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলো সে। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে সেলিম চোকদার এসে তার মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের এ ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান সেলিম চোকদার। পরবর্তীতে সেলিম তার প্রতিবেশী বন্ধু কিয়ামউদ্দিন হওলাদার ও ইদ্রিস মোল্লাকে নিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন বাড়িওয়ালা সোমা।

ওই কিশোরী আরও জানান, ধর্ষণের সময় ধর্ষকরা এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ধাঁরালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে হত্যার ভয় দেখাতো। এছাড়াও স্থানীয় মুদি দোকানী তারা মিয়া আমার বাবার কাছে টাকা পাবে এ কথা বলে সুযোগ বুঝে তাকে দোকানে ডেকে নিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতেন।

সম্প্রতি এ ঘটনা নাটকীয়ভাবে এলাকায় জানাজানি হয় একটি গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিলাসপুর ইউনিয়নের আলম বাজার এলাকায় রাধানগর গ্রামসহ আশপাশের অন্তত তিনটি গ্রামের কয়েকশ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে ওই কিশোরীর উপস্থিতিতে ধর্ষণের ঘটনা বিচারের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তরা সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় এবং ঘটনাটি আনুমানিক আড়াই মাস আগে হওয়ায় সমঝোতায় বাধার কারণ হয়। পরে এ সময় বিচারের দায়িত্বে থাকা সমাজপতিরা দোহার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক ও নারী সমাজকর্মীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক তিনটি মামলা নেন দোহার থানা পুলিশ।

মামলার বাদী ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা সুমন সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তরা তাকে প্রথমে টাকা দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। তিনি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন কে বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষণের কাজে সহযোগিতা করার দায়ে বাড়িওয়ালা এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ধর্ষকরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

কেএপি

আরও পড়ুন