• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০, ১২:৪১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০, ১২:৪১ এএম

আসছে ভারতের পেঁয়াজ, কমছে দাম

অর্থনীতি প্রতিবেদক
আসছে ভারতের পেঁয়াজ, কমছে দাম
সংগৃহীত ছবি

ভারতে আটকে থাকা পেঁয়াজ অবশেষে দেশে আসতে শুরু করেছে। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশের তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১২০০ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। তবে এই পেঁয়াজের মানভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে জানান আমদানিকারকরা।

ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে আসার খবরে রাজধানীসহ দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। শনিবার পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। আগেও পাইকারিতে কিছুটা দাম কমেছিল। খুচরা বাজারেও শনিবার পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সাতক্ষীরার ভোমরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এবং দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে। দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম।

শনিবার রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এবং অন্যান্য বাজার তদারকিতে আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ টাকার কমে বিক্রির পরামর্শ দেয় কমিটি। ব্যবসায়ীরাও ওই দামে বিক্রিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আমদানি পর্যায়ে থাকা পেঁয়াজের মধ্যে মোট ২৫ হাজার টন বাংলাদেশে আসবে। এলসি নিষ্পত্তি হওয়ার পরে বন্দরে আটকে থাকা এবং এলসি নিষ্পত্তি না হওয়া সব ধরনের পেঁয়াজ আসবে। তবে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বেঁধে দিয়ে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি নয়াদিল্লি। 

তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ভারতে আটকে থাকা পেঁয়াজও দেশে ঢুকছে। এই পেঁয়াজ মজুদ থাকা অবস্থাতেই টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলমসহ আমদানিকারকরা আরও এক লাখ টনের বেশি আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। এসব পেঁয়াজ দেশে এলে নতুন মৌসুম পর্যন্ত বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে। ফলে বাজারে স্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ বেচাকেনা হবে।

আলবেরুনী আরও বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশনসহ সব সংস্থা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিমের জোরদার তদারকি চলছে। এতে সিন্ডিকেট পিছু হটেছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের বেচাকেনা আগের চেয়ে কমেছে। এর মধ্যে আমদানি পেঁয়াজ দেশে আসছে। ফলে বাড়তি দাম ধরে রাখতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমায় খুচরা বাজারেও কমতে শুরু করেছে। এক দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। তবে মহল্লার দোকানে দামের হেরফের রয়েছে। খুচরায় ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে, যা আগের দিন ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। অপরদিকে ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

শ্যামবাজারে শনিবার ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি ৭২ টাকা এবং দেশি ক্রস পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় পাওয়া গেছে, যা আগের দিন ছিল যথাক্রমে ৭৭ টাকা ও ৭০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, বন্দরের পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরও কমবে। কারণ, ১০ দিন ট্রাকে আটকা থাকা পেঁয়াজের অনেক অংশ নষ্ট হয়েছে। ওই পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে ছাড়তে হবে। ওই পেঁয়াজের কেজি পাইকারিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নামতে পারে। তবে শেষদিকে এলসি করা আমদানি পর্যায়ে থাকা ভালো পেঁয়াজ বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে পারে। ভারতীয় পেঁয়াজ এলে বাজার আগের দামে ফিরতে পারে।

তিনি বলেন, ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আসছে। এতে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সংকট কেটে যাবে।

কেএপি

 

আরও পড়ুন