• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০১৯, ০১:৩২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৩১, ২০১৯, ০১:৩২ পিএম

ইটভাটার কারণে ৫৮ শতাংশ পরিবেশ দূষণ হয়: পরিবেশমন্ত্রী

জাগরণ প্রতিবেদক 
ইটভাটার কারণে ৫৮ শতাংশ পরিবেশ দূষণ হয়: পরিবেশমন্ত্রী
বাংলাদশে ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ) এর সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন


ইটভাটার জন্য ঢাকার ৫৮ শতাংশ পরিবেশ দূষণ হয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। আজ বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বিষয়ে বাংলাদশে ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ) এর সদস্যদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণ রোধে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ঢাকাসহ বড় বড় জেলা শহরে বায়ুর মান নিরূপনের জন্য ১৬টি ক্যাম্প স্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে আমরা বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমাদের ৫৮ ভাগ বায়ু দূষণ হয় ঢাকা সিটির ইটভাটার জন্য। ইটভাটা বন্ধের জন্য পরিকল্পনা ও আইন পাশ করা হয়েছে। ৬৫ ভাগ ইটভাটায় যাতে বায়ু দূষণ না হয়, সেজন্য সেগুলোকে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি। 

সব পলিথিন কারখানা বন্ধ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পলিথিন নিষিদ্ধ করেছি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহারের সুযোগ আছে। সরকারের নীতিমালার আওতায় যেসব পলিথিন নিষিদ্ধ সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দেবো। তবে যেগুলো নিষিদ্ধ নয় সেগুলো আমরা বন্ধ করতে চাই না। পাট দিয়ে আমরা বিকল্প ব্যাগ তৈরি করছি। সে বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শাস্তি দিয়ে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না বলেও জানান তিনি। 

শব্দ দূষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য হাইড্রোলিক হর্ণ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করেছি। যারা হর্ণ বাজায়, সেটি তাদের মানসিকতার বিষয়। বাইরের দেশে পেছনে কেউ হর্ণ বাজালে অন্যরা রাগান্বিত হয়। মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে শব্দ দূষণ বন্ধ হবে। যে হর্ণ বাজায় সেও বুঝতে পারছে না এটি কত ক্ষতিকর। 

বনের জমি দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বনের জমি দখল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় আছে। তাদের বিরুদ্ধেও মামলাও হয়েছে। শীঘ্রই এই জমি উদ্ধার করতে পারব বলে আশা করি।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রামপাল কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র। পরিবেশের ক্ষতিকর এমন কিছু এখন পর্যন্ত সেখানে হয়নি। রামপাল হলে পরিবেশ ও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর কিছু হবে না। সেজনই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রাখতে যে সব শর্ত দেওয়া হয়ে সেটি বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম। 

পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনকে ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়, ডেঞ্জার লিস্টে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা বলেছেন ইনভায়রনমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন দিলেই প্রজেক্ট শুরু করব। তাদের শর্ত অনুযায়ী নভেম্বরে তাদের একটি মিশনকে আমন্ত্রণ জানাবো। তবে রামপালের জন্য সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না। 

বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাউসার রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হোসাইন রাসেল প্রমুখ।

এমএএম/আরআই

আরও পড়ুন